এফএওর প্রতিবেদন

ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে

বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম ফেব্রুয়ারিতে বেড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিভাগের (এফএও) সর্বশেষ মাসভিত্তিক মূল্যসূচক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর পেছনে মূলত ভূমিকা রেখেছে চিনি, দুগ্ধজাত পণ্য ও ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধি।

বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম ফেব্রুয়ারিতে বেড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিভাগের (এফএও) সর্বশেষ মাসভিত্তিক মূল্যসূচক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর পেছনে মূলত ভূমিকা রেখেছে চিনি, দুগ্ধজাত পণ্য ও ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধি। খবর রয়টার্স, ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডট কম।

এফএওর মূল্যসূচক মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য হওয়া খাদ্যপণ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক ছিল গড়ে ১২৭ দশমিক ১ পয়েন্ট, যা আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এছাড়া এ মূল্যসূচক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

২০২৪-২৫ মৌসুমে চিনির বৈশ্বিক সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সময় ব্রাজিলে প্রতিকূল আবহাওয়ার ফলে উৎপাদন কমতে পারে। এছাড়া ভারতেও উৎপাদন কমে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে গত মাসে চিনির দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। এ সময় পণ্যটির মূল্যসূচক নির্ধারণ হয়েছে ১১৮ দশমিক ৫ পয়েন্টে।

ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে গড়ে ১১২ দশমিক ৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে। যদিও সামগ্রিক সূচক গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় কিছুটা কম ছিল। বাজার বিশ্লেষকরা জানান, রাশিয়া থেকে সরবরাহ সংকট এবং পূর্ব ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ফসলের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় এ সময় গমের দাম ছিল ঊর্ধ্বমুখী। বিশ্ববাজারে ভুট্টার মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত ছিল। এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে ব্রাজিলে সরবরাহ সংকট ও আর্জেন্টিনায় ফসলের অবস্থার অবনতি। অন্যান্য খাদ্যশস্যের মধ্যে যব ও সরগমের দামও বেড়েছে। যদিও এ সময় পর্যাপ্ত সরবরাহ ও নিম্নমুখী চাহিদার কারণে এফএও চালের মূল্যসূচক ফেব্রুয়ারিতে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।

বিশ্বব্যাপী গত মাসে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম জানুয়ারির তুলনায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোয় উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম থাকায় এ ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। এছাড়া গত মাসে ভোজ্যতেলের দাম মাস ভিত্তিতে ২ ও বছর ভিত্তিতে ২৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সরবরাহ সংকট ও বায়োডিজেল খাতে শক্তিশালী চাহিদার কারণে এ সময় পাম অয়েল, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের দাম বেশি ছিল।

এদিকে এক পৃথক প্রতিবেদনে এফএও জানায়, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী গম উৎপাদন কিছুটা বেড়ে ৭৯ কোটি ৬০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) ফ্রান্স ও জার্মানিতে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে পূর্ব ইউরোপের খরার প্রভাব এবং পশ্চিম ইউরোপে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে ফলন কিছুটা ব্যাহত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে গমের আবাদি জমি বাড়লেও খরার কারণে ফলন কমতে পারে।

এছাড়া এফএও ২০২৪ সালের জন্য বিশ্ব শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস কিছুটা সংশোধন করে ২৮৪ কোটি ২০ লাখ টনে উন্নীত করেছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় কিছুটা বেশি।

আরও